অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে প্রথম পারিশ্রমিকের অংকটি হয়তো খুব একটা বড় ছিল না, তবে অনেক তারকার কাছে সেই প্রথম উপার্জনের স্মৃতি হয়ে থাকে অমলিন। চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিমের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই। নাটক থেকে শুরু করে এখন সিনেমার নায়িকা হয়ে ওঠা মিমের পরিচিতি ও কাজের পরিধি সময়ের সাথে সাথে বহুগুণ বেড়েছে, তবে শুরুর দিনগুলোর সেই বিশেষ স্মৃতি তিনি আজও যত্নে আগলে রেখেছেন।

ছোট পর্দার মাধ্যমেই অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন বিদ্যা সিনহা মিম। তবে চলচ্চিত্রে পরিচিতি পাওয়ার আগে তাঁর জীবনে আসে এক অনন্য অভিজ্ঞতা—প্রয়াত কথাসাহিত্যিক ও প্রথিতযশা নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় নাটকে অভিনয় করার সুযোগ। সেই নাটকের মাধ্যমেই তিনি পান তাঁর জীবনের প্রথম পারিশ্রমিক। সেই কাজের জন্য সম্মানী হিসেবে পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা। মিম জানিয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে পাওয়া সেই প্রথম সম্মানীর টাকা তিনি এখনো যত্ন করে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এই সামান্য অংকের টাকার সাথে জড়িয়ে আছে তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুর দিনগুলোর অনেক গল্প ও আবেগ।

লাক্স প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর মিমের সামনে অভিনয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে মডেলিং করার পর তিনি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় ‘রহস্য’ নাটকে অভিনয় ছিল তাঁর শুরুর দিকের অন্যতম কাজ। এই নাটকটির জন্যই তিনি পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী পান। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে মিম জানান, সেই টাকা তিনি তাঁর মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তবে যেহেতু এটি হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে পাওয়া প্রথম সম্মানী ছিল, তাই এই স্মৃতিটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ হয়ে আছে।

তবে শোবিজ জগতে মিমের প্রবেশের পথটি খুব একটা সহজ ছিল না। ২০০৭ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার আগে প্রায় দুই বছর ধরে মিডিয়ায় কাজের চেষ্টা চালিয়েছিলেন তিনি। শুরুর দিকে অভিনয়ের কিছু প্রস্তাব পেলেও মিম চেয়েছিলেন প্রধান বা নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করতে। একবার অভিনেতা জাহিদ হাসানের বোনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। মজার ব্যাপার হলো, পরবর্তীতে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রে সহশিল্পী হিসেবে তিনি জাহিদ হাসানকেই পান।

২০০৮ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় মিমের। এই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে তিনি তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন একজন কিংবদন্তি নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ছবিতে অভিনয়ের সময় মিম ছিলেন একেবারেই নতুন, আর তাঁর সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন দেশের প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পীরা। মিম স্মৃতিচারণা করে জানিয়েছেন, তাঁর সেই জড়তা কাটাতে হুমায়ূন আহমেদ তাঁকে অনেক সাহায্য করেছিলেন।

‘আমার আছে জল’ মুক্তির পর মিমের অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায় এবং এই ছবিটির মাধ্যমেই তিনি চলচ্চিত্রে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ২০০৯ সালে মুক্তি পায় তাঁর দ্বিতীয় ছবি ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’। পরবর্তীতে তিনি ‘জোনাকির আলো’, ‘তারকাঁটা’, ‘ইত্তেফাক’, ‘অন্তর্জাল’, ‘পদ্ম পাতার জল’, ‘পরাণ’, ‘দামাল’সহ আরও অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। গত বছর পাওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, এই নায়িকা বর্তমানে প্রতি সিনেমার জন্য ১৫ লাখ টাকার বেশি পারিশ্রমিক নেন। অথচ চলচ্চিত্রে অভিষেকে তাঁর প্রাপ্ত সম্মানী ছিল তিন লাখ টাকা।