শৈশবের রঙিন স্মৃতি আর মিষ্টি স্বাদের কথা মনে পড়লেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ক্যান্ডির ছবি। ছোটবেলায় ক্যান্ডি খেতে ভালোবাসেননি এমন মানুষ খুব কমই খুঁজে পাওয়া যায়। তা সে চকোলেট হোক, টফি, লজেন্স কিংবা জেলি ক্যান্ডি—এই মিষ্টির নাম শুনলেই আমরা যেন সেই পুরনো দিনগুলোতে ফিরে যাই। মিষ্টি ক্যান্ডির প্রতি মানুষের এই চিরন্তন ভালোবাসা ও আবেগকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ৪ নভেম্বর পালিত হয় ‘জাতীয় ক্যান্ডি দিবস’ (National Candy Day)।

কেন পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি?

মূলত বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও ক্যান্ডির প্রতি মানুষের যে গভীর অনুরাগ, তা উদ্‌যাপন করার লক্ষ্যেই এই দিনটি পালন করা হয়। ক্যান্ডির সাথে আমাদের অনেকেরই শৈশবের অমূল্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। স্কুল ছুটির পর রাস্তার ধারের দোকান থেকে ক্যান্ডি কেনা, জন্মদিনের উৎসবে ক্যান্ডির রঙিন প্যাকেট পাওয়া কিংবা বাবার কাছে আবদার করে প্রিয় চকোলেট খাওয়ার সেই মুহূর্তগুলো এই দিনটিকে আরও আনন্দময় করে তোলে।

তবে ক্যান্ডির জনপ্রিয়তা শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বড়দের কাছেও এটি সমানভাবে জনপ্রিয়। বিভিন্ন স্বাদের ক্যান্ডি যেমন অনেকের মন ভালো করতে সাহায্য করে, তেমনি তা পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলোকে পুনরায় জাগ্রত করে তোলে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জনপ্রিয় ক্যান্ডির ধরন

বিশ্বের একেক দেশে ক্যান্ডির ধরন এবং এর প্রতি মানুষের আবেগ ভিন্ন ভিন্ন। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে রিসেস পিনাট বাটার কাপ এবং এমঅ্যান্ডএমস অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্যদিকে কানাডায় কিটক্যাটের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। ডেনমার্কে হারিবোর ব্র্যান্ডের গামি বিয়ার বেশ পরিচিত।

যুক্তরাজ্যের মানুষের কাছে ক্যাডবেরি চকোলেটের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। রাশিয়ায় অ্যালপেন গোল্ড এবং চিলিতে অ্যামব্রোসোলি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ফলের ক্যান্ডি ও চকোলেট বেশ জনপ্রিয় হিসেবে গণ্য হয়।

ক্যান্ডির ইতিহাসের প্রাচীন কথা

ক্যান্ডি শব্দটির উৎপত্তি ও এর ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে ফরাসি শব্দের মাধ্যমে ইংরেজি ভাষায় আরবি ‘Qandi’ শব্দটি প্রবেশ করে। এই শব্দটির মূল অর্থ হলো চিনির তৈরি বা চিনিযুক্ত কোনো বস্তু।

প্রাচীনকাল থেকেই মিষ্টির প্রচলন ছিল, তবে তখন চিনির বদলে মধু ব্যবহার করে বিভিন্ন মিষ্টি খাবার তৈরি করা হতো। প্রাচীন মিসরীয়, আরব ও চীনারা ফল সংরক্ষণের জন্য মিষ্টির আবরণ তৈরি করতেন। বিশেষ করে আদা ও খেজুরের মতো ফল মিষ্টি করে সংরক্ষণ করার প্রচলন ছিল দীর্ঘকাল ধরে।

পরবর্তীতে দক্ষিণ আমেরিকায় অ্যাজটেক ও মায়া সভ্যতার মানুষ কোকো ব্যবহার করে বিশেষ পানীয় তৈরি করতেন। স্প্যানিশরা যখন কোকো ইউরোপে নিয়ে যান, তখন থেকেই চকোলেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৪৭ সালে প্রথমবারের মতো চকোলেট বার তৈরি করা হয়।

উনিশ শতকের শুরুর দিকে লেমন ড্রপ এবং পেপারমিন্টের মতো শক্ত ক্যান্ডিগুলো জনপ্রিয় হতে শুরু করে। এরপর ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ক্যান্ডির দোকান এবং বড় বড় উৎপাদন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যা এই শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করে।

কিভাবে উদ্‌যাপন করবেন এই দিবস?

জাতীয় ক্যান্ডি দিবস উদ্‌যাপনের জন্য খুব বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। আপনি চাইলে নিজের পছন্দের ক্যান্ডি কিনে এই দিনটি উদ্‌যাপন করতে পারেন। এছাড়া আগে কখনো চেখে দেখেননি এমন নতুন কোনো স্বাদের ক্যান্ডি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

পরিবারের সদস্য বা কাছের মানুষদের নিয়ে ঘরেই ক্যান্ডি তৈরির পরিকল্পনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সাথে নিয়ে মিষ্টি তৈরির অভিজ্ঞতা হবে অত্যন্ত আনন্দদায়ক। পাশাপাশি প্রিয়জনকে এক প্যাকেট ক্যান্ডি উপহার দিয়ে দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলা সম্ভব। ছোট্ট এই মিষ্টি উপহারটিই আপনার প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।