ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে প্রায় সাত মাস আগে খুলনায় বাণিজ্যিক আদালতের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এই আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি চালু করা হয়নি কোনো পৃথক দাপ্তরিক ব্যবস্থাও। ফলে বর্তমানে অন্য আদালতের বিচারকদের অতিরিক্ত দায়িত্বের ওপর ভর করেই চলছে এই আদালতের বিচারিক কার্যক্রম।

বিভিন্ন আদালত থেকে পুরোনো মামলাগুলো শনাক্ত করে এখানে স্থানান্তর করা হলেও নতুন মামলার সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য, যা মাত্র তিন থেকে চারটি। এর পাশাপাশি আদালতপাড়ায় এজলাসের তীব্র সংকটও বিদ্যমান। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, খুলনা জেলা ও মহানগর এলাকার বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দুটি আদালতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত এবং মহানগর পর্যায়ে অতিরিক্ত জেলা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারকেরা বর্তমানে বাণিজ্যিক আদালতের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই বিশেষ আদালতের জন্য আলাদা কোনো বিচারক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং পৃথক কোনো দপ্তরের ব্যবস্থাও করা হয়নি।

আদালত প্রশাসনের কর্মকর্তা কমরুজ্জামান জানান, বাণিজ্যিক বিরোধসংক্রান্ত ২৪ ধরনের মামলার একটি তালিকা আইনের গেজেটসহ বিভিন্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পুরোনো মামলাগুলো চিহ্নিত করে বাণিজ্যিক আদালতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় দুই আদালত মিলিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি মামলা পাওয়া গেছে। তবে উল্লেখ্য যে, এই মামলাগুলো গত সাত মাসের মধ্যে দায়ের করা হয়নি। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে মাত্র তিন থেকে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর ফলে বাণিজ্যিক আদালত চালু হওয়ার পরও নতুন মামলার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় জনবল এবং পৃথক দাপ্তরিক কাঠামোর অভাব থাকায় আদালতগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির মো. জাকারিয়া শেখ বলেন, “আদালতপাড়ায় এজলাসসংকট রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে কয়েকটি এজলাস নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ছয়টি এজলাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে এ কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও জানান, সাধারণত নতুন কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর বিচারকাজ পরিচালনার জন্য বসার জায়গা, আসবাবপত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভবনের কক্ষ সংস্কার করে বিচারকাজ চালানোর ব্যবস্থা করতে হয়। ফলে নতুন আদালত প্রতিষ্ঠার সাথে সাথেই পূর্ণাঙ্গ বিচারিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

খুলনার সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, “বাণিজ্যিক আদালতে এখন পর্যন্ত খুব বেশি মামলা হয়নি।” তার মতে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে শিল্প-বাণিজ্যের ব্যাপকতা অনেক বেশি হওয়ায় এ ধরনের আদালতের প্রয়োজনীয়তা সেখানে বেশি দৃশ্যমান।

তিনি আরও বলেন, “খুলনায় শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিসর বিবেচনায় আদালতটির ব্যয় ও কার্যকারিতা নিয়েও ভাবা প্রয়োজন।” তবে সরকার জনস্বার্থ বিবেচনা করেই এই আদালতটি প্রতিষ্ঠা করেছে বলে মনে করেন তিনি।