তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণের কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে ভর্তুকি প্রদানের সক্ষমতা সরকারের ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে এবং এই বাস্তবতাকে মাথায় রাখা প্রয়োজন।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের আপডেট জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি বিশেষ করে রান্নার গ্যাস, “এলপিজির মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ওপর কতটা চাপ পড়ে, এটা সরকার বোঝে। বুঝতেই হবে। তারপরও সরকার এ কাজটা (মূল্য বৃদ্ধি) করল। এখন আপনি প্রশ্ন করছেন আমরা তো জনগণের কল্যাণের কথা বলি, তারপরও কেন করছি? আমি যদি এভাবে বলি, এই মূল্যবৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের কথা মাথায় রেখে।”
মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিকল্প উপায় হিসেবে ভর্তুকির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, “কী হতে পারে? এটার মূল্য কমানোর জন্য সরকারকে এখন ভর্তুকি দিতে হতে পারে, তাই তো। যেমন আমরা অনেকেই প্রায়ই ভারতের জ্বালানি খাত, বিশেষ করে রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি আছে আমরা অনেকেই জানি না। কিন্তু দাম তুলনা করি যে সেখানে দাম কম। তো সরকারের একটা অপশন হতে পারে ভর্তুকি দিতে পারে, দিয়ে দামটা একটা নাগালের মধ্যে রাখতে পারে।”
তবে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে ভর্তুকির চ্যালেঞ্জ আলাদা বলে তিনি মনে করেন। জাহেদ উর রহমান জানান, দেশীয় প্রস্তুত পণ্যের ভর্তুকি আর আমদানিকৃত পণ্যের ভর্তুকি এক নয়। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, যা সরাসরি রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতিতে সরকার আসলে কতটুকু ভর্তুকি দিতে সক্ষম, তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “একটা জিনিস জানিয়ে রাখি, আগেও বলেছি, আমাদের এই চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার একটি পরিকল্পনা। আমি একটা ব্রিফিংয়ে আড়াই মাসের মাথায় জানিয়েছিলাম, ৪৮ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আমরা এখন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছি প্রতি ইউনিট ৩০ ডলারে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ ডলার।”
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির দেশে এখন সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যে কোথায় কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে এবং কোথায় কঠোর হতে হবে। এই সংকটের প্রভাব কোনো না কোনোভাবে কাউকে না কাউকে বহন করতেই হবে।
মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে তিনি স্বীকার করেন যে, এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বড় প্রভাব পড়ছে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সরকার যদি অন্য কোনো ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, তবে এই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পরিশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আবারও বলছি, ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমাগত কমছে। এটা মাথায় রাখতে হবে।”
সচিবালয়ের ওই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম।