বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি রোধ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এই নির্দেশনার আওতায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, এলপিজির বর্তমান সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করার লক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ দেশের সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একটি অনলাইন মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, “ওই সভায় এলপিজির বাজার তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসককে তাঁর এলাকার সব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অপারেটর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি, মাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি, ডিস্ট্রিবিউটর এবং ডিলাররা ঠিক কত পরিমাণ এলপিজি সংগ্রহ করেছেন, সেই সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পরিচয় যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, জেলা প্রশাসকদের অবিলম্বে নিজ নিজ জেলার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সাথে সরাসরি সভায় বসতে বলা হয়েছে। উক্ত সভায় জেলার এলপিজি সরবরাহ, বিতরণ এবং বাজারজাতকরণের প্রকৃত ও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

সরকারের নির্দেশনায় আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এলপিজি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ বা চ্যানেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যাতে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায় সঠিকভাবে শনাক্ত ও যাচাই করা সম্ভব হয়। যদি কোনো অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ডিস্ট্রিবিউটরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ডিলারের প্রাপ্ত এলপিজির পরিমাণে বড় ধরনের কোনো অসামঞ্জস্য দেখা যায়, তবে তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে যদি কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এলপিজির সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি, সরবরাহব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিচ্যুতি কিংবা অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তবে তা দ্রুত জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

জাহেদ উর রহমান আরও জানান, জেলা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে এলপিজির অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই সমন্বিত ডাটাবেজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে।