রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পুনরায় দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন হাতেম আলী। মবের মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া এই অধ্যক্ষ আদালত, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২৭ মাস পর আজ মঙ্গলবার তাঁর পুরনো চেয়ারে ফিরে এসেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট একদল উত্তেজিত মানুষের দ্বারা মব তৈরি করা হয় এবং সেই চাপের মুখে অধ্যক্ষ হাতেম আলী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সে সময় এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পদত্যাগের পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্বের বাইরে ছিলেন। এই অন্তর্বর্তী সময়ে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিনি বেশ কয়েকবার চিঠি পেলেও বিভিন্ন কারণে কলেজে যোগদান করতে পারেননি। এমনকি আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাঁর ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৩ অক্টোবরের এক নির্দেশনার মাধ্যমে নতুন মোড় নেয় এই vicenda। হাতেম আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে সব ধরনের অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং পুনরায় কলেজের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়। সেই নির্দেশনার আলোকেই ২৬ মাস ১৩ দিন পর আজ পুনরায় অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন হাতেম আলী।

উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালে ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত থাকাকালীনই হাতেম আলী অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সরকারি হওয়ার পর তিনি এই পদে বহাল থাকেন। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তিনি মবের শিকার হন এবং তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়।

অধ্যক্ষের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিকালীন সময়ে কলেজের রুটিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিন শিক্ষক—আবদুস সাত্তার সরদার, রমজান আলী ও বেলাল হোসেন। আজ সকালে হাতেম আলী যখন কলেজে পৌঁছান, তখন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে উষ্ণ অভ্যয়ন জানান। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা বেলাল হোসেন তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর চেয়ারে বসিয়ে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

নিজের এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে অধ্যক্ষ হাতেম আলী বলেন, “মব সৃষ্টি করে আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আমাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এখন থেকে আবারও কলেজের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সব শিক্ষকের সহযোগিতায় লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাব।”