দেবী দুর্গার প্রতিমা নির্মাণে সাধারণত মাটি, খড় এবং নানা ধরনের প্রথাগত উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কোথাও দেখা যায় শৈল্পিক কারুকাজের ছোঁয়া, আবার কোথাও ফুটে ওঠে ঐতিহ্যের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। তবে এবার প্রচলিত সব ধারাকে ছাপিয়ে এক ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ আয়োজনের সাক্ষী হয়ে রইল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর। সেখানে প্রায় ১০ হাজার গোল্ডেন কয়েন চকলেট ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। সোনালি আভায় উজ্জ্বল এই ব্যতিক্রমী প্রতিমাটি দেখার জন্য মন্দিরে উপচে পড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।

তাহেরপুরের শ্রী শ্রী গঙ্গা মাতা মন্দিরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন নবজাগরণ সংঘের বিশেষ উদ্যোগে এই অনন্য প্রতিমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। গোল্ডেন কয়েন চকলেটের নান্দনিক প্রয়োগ প্রতিমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রা প্রদান করেছে। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে এমন সৃজনশীল উদ্যোগ পুরো পূজামণ্ডপটিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রতিমাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের চকলেটের আবরণে ফুটিয়ে তোলার এই অভিনব প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করতে মন্দিরে ভিড় করছেন সব বয়সী মানুষ।

আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এই বিশেষ প্রতিমাটি তৈরিতে প্রায় ১০ হাজার পিস গোল্ডেন কয়েন চকলেট ব্যবহার করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। প্রতিমা নির্মাণের কারিগরি দায়িত্বে ছিলেন নাটোরের দক্ষ প্রতিমাশিল্পী নীল কুমার দাস। তাঁর নিপুণ হাতের কারুকাজে চকলেট দিয়ে দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের রূপ অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরই পূজার সময় দর্শনার্থীদের সামনে নতুন ও চমকপ্রদ কিছু উপস্থাপন করার চেষ্টা করে নবজাগরণ সংঘ। সেই ভাবনা থেকেই এবার প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে চকলেট দিয়ে প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল পূজার আনন্দ উৎসবে এক নতুন মাত্রা যোগ করা।

তাহেরপুর শ্রী শ্রী গঙ্গা মাতা মন্দির কমিটির সভাপতি শিবেন হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দিজেন হালদার জানান, এবারের এই চকলেট প্রতিমা এলাকার পূজার আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন, সেজন্য মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।