নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো চরম অভাবের সংসার ছিল মো. শরীফের। দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার চালানো যেখানে ছিল অত্যন্ত কঠিন, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল যেন এক অলীক কল্পনা। তবে জীবনের সব প্রতিকূলতাকে জয় করে আজ সেই পরিবারে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের আলো ফিরিয়ে এনেছেন বড় ছেলে মো. শরীফ।

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে শরীফের বাড়ি। তাঁর বাবা মো. কামাল হোসেন পেশায় একজন জেলে এবং মা মোসাম্মৎ ফাতেমা একজন গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে শরীফ সবার বড়। চরম আর্থিক অনটনের মুখে দাঁড়িয়েও অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা থেকে তিনি সফলভাবে এসএসসি পাস করেন। তবে এসএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার প্রবল স্বপ্ন থাকলেও বাস্তবতার কঠিন দেয়াল তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ছোট তিন ভাইবোনের ভবিষ্যৎ গড়া এবং সংসারের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন দূর করার তাগিদে পড়াশোনা থামিয়ে দিয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে নেন শরীফ।

পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০২২ সালে তিনি পাড়ি জমান সৌদি আরবে। বর্তমানে সেখানে একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে গাড়িচালক (ড্রাইভার) হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। প্রবাসের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উপার্জিত প্রতিটি টাকা তিনি পরিবারের কল্যাণে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

শরীফের এই প্রচেষ্টায় তাঁদের দীর্ঘদিনের অভাব এখন অনেকাংশে ঘুচে গেছে। তাঁর ছোট ভাইবোনেরা এখন নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে। তাঁদের মধ্যে এক ভাই বর্তমানে মদনপুর আলোর পাঠশালায় নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। শুধু ভাই-বোনদের পড়াশোনাই নয়, পুরো পরিবারের ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্ব এখন এই তরুণের একার কাঁধে।

ছেলের এই সাফল্যে আজ গর্বিত বাবা মো. কামাল হোসেন। হাসিমুখে তিনি বলেন, “আগে শরীফ যখন পড়াশোনা করত, তখন তার একার খরচ চালানো ও সংসার সামলানো আমাদের জন্য ভীষণ কষ্টকর ছিল। আল্লাহর রহমতে এখন আমার ছেলে বিদেশে থেকে সব ভাই-বোনের পড়ার খরচ চালাচ্ছে এবং সংসারটা খুব ভালোভাবে চলছে। আপনারা আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।”