ভোলার দৌলতখানে এক জীবিত জেলেকে নথিতে মৃত হিসেবে উল্লেখ করতে রাজি না হওয়ায় সহকর্মী গ্রাম পুলিশের হাতে গুরুতর আহত হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে মনির হোসেন নামের আরেক গ্রাম পুলিশের।
গত রোববার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
আহত সাদ্দাম হোসেন চরখলিফা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুল খালেক চৌকিদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, একজন জীবিত জেলেকে মৃত হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। এই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে মনির হোসেন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। মারধরের এক পর্যায়ে সাদ্দামের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, যার ফলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়।
সাদ্দাম আরও এক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, চরখলিফা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বস্তায় বস্তায় আত্মসাৎ করেছেন মনির হোসেন। এই দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল বলে তিনি জানান।
পুরো ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গ্রাম পুলিশ মনির হোসেন সাদ্দামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা শারীরিক হামলা এবং চাল আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মতিন খান জানিয়েছেন, “এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”