ভোলার দৌলতখানে মেঘনা নদীর চরে আগাম সবজি চাষের জন্য জমির চারপাশে বাঁধ নির্মাণের সময় ভেকুচালক ও তিন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মদনপুর ইউনিয়নের মাঝের চরে এই ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

আক্রান্তদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে শাহিনের নেতৃত্বে কয়েকজন মিলে খননযন্ত্র (ভেকু) চালক আক্কাস আলী, তাঁর সহকারী মো. হাসান ও শ্রমিক মো. কামালকে মারধর করেন। আহত তিনজন বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে খননযন্ত্রচালকের সহকারী প্রায় দুই মাইল দৌড়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, মদনপুর চর, বৈরাগীর চর ও কাচিয়ার চরে প্রতিবছর রবি মৌসুমে দুই থেকে আড়াই হাজার একর জমিতে ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা, শসাসহ বিভিন্ন আগাম সবজির চাষ হয়। তবে চাষাবাদের শুরু থেকেই সেখানে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ ও জোয়ারের পানি ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণের সময়ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলে তাঁদের অভিযোগ।

কৃষকদের ভাষ্যমতে, নগদ টাকায় জমি লগ্নি নিয়ে চাষ করলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। বাঁধ নির্মাণে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভেকু ব্যবহার করতে চাপ দেওয়া হয় এবং কৃষকের নিজস্ব যন্ত্র থাকলেও তা ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। এছাড়া সার, কীটনাশক ও কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এবং নিজেদের নৌকা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাধার অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মদনপুর চরে ফারুকের জমিতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চারপাশে ভেকু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজ শেষ হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহিনের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে গিয়ে কোনো কথা না বলেই শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান এবং লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। খবর পেয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।

ভেকুর ভাড়া স্থানীয়ভাবে ঘণ্টায় প্রায় তিন হাজার টাকা জানিয়ে কৃষকেরা বলেন, শাহিন তাঁর ভেকু ব্যবহারের জন্য ঘণ্টায় চার হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া তাঁর ভেকু ব্যবহার না করলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে চাঁদা দাবির কোনো লিখিত বা রেকর্ডভিত্তিক প্রমাণ তাঁদের কাছে নেই। ভেকুটি ভোলা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল এবং বিষয়টি ভেকুর মালিক কাইদ মিয়া, হেলাল মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এর আগে ট্রাক্টর ব্যবহার নিয়েও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি এক বৈঠকের পর কৃষকেরা নিজেদের পছন্দের ট্রাক্টর ব্যবহার করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত হলেও নির্ধারিত ভাড়া ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও সার, বীজ ও অন্য কৃষি উপকরণ নিজস্ব নৌকায় আনতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহিন। তিনি বলেন, ঘটনাটি জমি দখল বা চাষাবাদে বাধা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রাতে একটি ভেকুকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি থেকে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং কাউকে মারধর করেননি, এমনকি চাষাবাদেও বাধা দেননি।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকরুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শাহিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।