আগামী ২০৫১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি প্রবীণ অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে। সেই সময়ে দেশে তরুণ প্রজন্মের তুলনায় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা অধিক হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যা বিষয়ক এক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানানো হয়।

সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাগত সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে যুবসমাজের সঠিক দিকনির্দেশনা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রবীণপ্রধান সমাজ সামলাতে কেয়ার ইকোনমি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক গিগ ইকোনমির কর্মীদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, সরকার বর্তমানে কেয়ার ইকোনমির প্রসার ঘটিয়ে শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সেবায় দক্ষ জনবল তৈরির কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সেবায় দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার কেয়ার ইকোনমির প্রসার ঘটাচ্ছে।’

সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং কেয়ার ইকোনমি প্রসারে বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি ২০৫০ সালের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সেই সঙ্গে তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বজনীন ও বিশ্ববাজারের উপযোগী করার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা এবং চাইল্ড কেয়ার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই মত প্রকাশ করেন যে, জনসংখ্যাগত সুবিধার দুই দশকের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।