ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু দাবি আদায় করতে সাভারের আশুলিয়ায় আজ আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে আশুলিয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত অবস্থায় ফিরেছে। গত চার দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, চলমান শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার সকালে অনেক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিলেও কিছু কারখানায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনের সড়কে শ্রমিকেরা টায়ার ও প্লাস্টিকজাতীয় বস্তুতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সময়ে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ইউনিক ও নিশ্চিন্তপুর এলাকাতেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে।
বিক্ষোভ চলাকালীন এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের (টিয়ার শেল) শেল নিক্ষেপ করে, যার ফলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পুলিশের এই পদক্ষেপের মুখে শ্রমিকেরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকার প্রায় ৪০টি কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। এছাড়া আরও প্রায় ১০টি কারখানার শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরেই কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করার পর বর্তমানে পুরো আশুলিয়া এবং বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ১০টি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানায় অবস্থান করছেন।”