সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে টানা তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক অসন্তোষের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উদ্ভূত উত্তেজনা প্রশমন এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ অন্তত ২৬৪টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল থেকে আশুলিয়া এলাকা থেকে তিনজনকে এবং সাভার এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে।

শিল্পপুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বিকেলে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ ২৬৪টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

সোমবার সকালে সাভারের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকেরা তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। নিশ্চিন্তপুর এলাকার ‘নিউ এইজ’ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের ‘অনন্ত গার্মেন্টস’ এর সামনে জড়ো হন। এই পরিস্থিতির ফলে নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে হয়।

শ্রমিকেরা যখন সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ চলাকালীন নরসিংহপুর এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া পিকার্ড বাংলাদেশ, আর্টিস্টিক ডিজাইন, জনরন সোয়েটার, ফেরারি গার্মেন্টস, ডেনিটেক্স, আনলিমা টেক্সটাইল, আল ইসলাম টেক্সটাইল ও জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন কারখানার সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষ ও সহিংসতার এসব ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা জেলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে জানান, পুলিশ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪ জন শ্রমিককে আটক করেছে। এর মধ্যে আশুলিয়া থেকে ৩ জন ও সাভার থেকে ১ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে রয়েছে পুরো এলাকা এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।