ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর থেকেই মোহাম্মদ আমিরের আইপিএলে খেলা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি সেই আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। খবর ছড়িয়ে পড়ে, ব্রিটিশ ক্রিকেটার হিসেবে আগামী আইপিএলের নিলামে নাম লেখাতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার। তবে সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন আমির নিজেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২৭ সালের আইপিএল নিলামে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাহাতি পেসার। পরে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকেও একই কথা জানিয়েছেন তিনি। এর আগে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) প্লেয়ার্স ড্রাফটে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে আমিরের নিবন্ধনের খবর থেকেই আইপিএলে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের প্লেয়ার্স ড্রাফটে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন আমির। সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে তাকে। ড্রাফটের নিবন্ধন তালিকায় তার জাতীয়তা হিসেবে যুক্তরাজ্য এবং বসবাসের দেশ হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন খবর প্রকাশের পরই নতুন করে আলোচনায় আসে আইপিএলের প্রসঙ্গ। ক্রিকবাজের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মতো আইপিএলের নিলামেও ব্রিটিশ ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখাতে পারেন আমির। তবে সেটি ছিল সম্ভাবনার কথা, তার নিবন্ধনের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়।

সেই প্রতিবেদনের পরই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার। এক্সে তিনি লেখেন, ‘সবাইকে জানাতে চাই, আইপিএল নিয়ে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়।’

পরে ক্রিকবাজ সরাসরি আমিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আরও স্পষ্টভাবে বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। দুবাই থেকে পাঠানো বার্তায় আমির বলেন, ‘না, আমি নিলামের জন্য নিবন্ধন করছি না।’

Hi everyone just wanted to clarify news regarding IPL is not true. — Mohammad Amir (@iamamirofficial) November 2, 2026

Hi everyone just wanted to clarify news regarding IPL is not true

আমিরের এই বক্তব্যে আসন্ন আইপিএল নিলামে তার অংশগ্রহণের গুঞ্জনের অবসান ঘটেছে। তবে ভবিষ্যতে কখনো আইপিএলে খেলবেন না, এমন কোনো ঘোষণা দেননি তিনি।

মূলত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর থেকেই আমিরকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট পান পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার। তার স্ত্রী নার্জিস খান ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেন আমির।

ব্রিটিশ পাসপোর্ট পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার অবস্থান বদলে যায়। আগে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে খেললেও এখন স্থানীয় ক্রিকেটারের মর্যাদা পাচ্ছেন তিনি। গত জুনে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে যোগ দেন আমির। সেখানে তাকে বিদেশি কোটার খেলোয়াড় হিসেবে গণনা করা হয়নি।

একই সুবিধা পেয়েছেন দ্য হান্ড্রেডেও। জুলাইয়ে চোট পাওয়া ডেভিড পেইনের বদলি হিসেবে ট্রেন্ট রকেটসে যোগ দেন তিনি। নটিংহ্যামভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজিটিতে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন আমির। ফলে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, সেটি ইতোমধ্যেই প্রমাণিত।

এই কারণেই আইপিএলে তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা বাড়ে। ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতাটির প্রথম আসরে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা খেললেও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণে তাদের আর দেখা যায়নি ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে।

তবে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া ক্রিকেটারের ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে আইপিএলে খেলার নজির রয়েছে। সাবেক পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আজহার মাহমুদ ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আইপিএলে খেলেছেন। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

আজহারের সেই উদাহরণ থেকেই আমিরের সম্ভাব্য আইপিএল অভিষেক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ব্রিটিশ নাগরিকত্বের কারণে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মাধ্যমে নিলামে নিবন্ধনের সুযোগও থাকতে পারত তার। তবে নিবন্ধন করলেই যে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে দলে নিত, তার নিশ্চয়তা ছিল না।

এর আগে অবশ্য আইপিএলে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন আমির। গত আগস্টে দ্য হান্ড্রেড চলাকালে ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে খেলার পরিকল্পনার কথাও জানান।

এবার অবশ্য নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার। আগামী আইপিএল নিলামে নাম না লেখানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।