নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নূরুজ্জামানসহ তাঁর আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ পরিজনদের নামে দেওয়া সারের ডিলারশিপ নিয়োগ বাতিলের দাবি উঠেছে। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উপজেলার কয়েকজন সার ব্যবসায়ী এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এই লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেবল রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো প্রদান করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, গত ৭ অক্টোবর গুরুদাসপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সারের ডিলার নিয়োগের যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে সরকারি নিয়মকানুন মানা হয়নি। অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) এবং তাঁর ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ধারাবারিষা ইউনিয়নে সংসদ সদস্যের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া সংসদ সদস্যের ভাগ্নের স্ত্রী রাজিয়া বেগমের মালিকানাধীন রাজ বিজনেস সেন্টার এবং ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের ভায়রাসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ beberapa ব্যক্তিকে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং গুদামসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওমর আলী শেখ এবং সার ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ, শাহিন হোসেন, আতিকুল ইসলাম, রইচ উদ্দিন, শামীম আক্তার, আয়নাল হোসেন ও গোলাম হোসেন।
অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের এবং তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইরফান নিয়াজ একটি ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানান। গতকাল রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে অজ্ঞাত স্থান থেকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাত মিনিট সাত সেকেন্ডের একটি লাইভ ভিডিওতে বক্তব্য দেন ইরফান। তিনি সাধারণত নূরুজ্জামানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেল গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলটি ইরফান নিয়াজের। নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইরফান নিয়াজের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।