ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি কিংবা অ্যাডহক কমিটি বাতিলের যে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল, তার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতির দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এই আদেশ প্রদান করেন।
গত ১৯ অক্টোবর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত ওই অফিস আদেশটি জারি করেছিল। এই আদেশের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোলার চরফ্যাশন কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি আইনজীবী পারভেজ হোসেন গত সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন। আদালতের শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী পারভেজ হোসেন নিজে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী ও মো. জসিদুল ইসলাম।
হাইকোর্টের এই আদেশের প্রেক্ষিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী জানিয়েছেন, তারা আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শুধু রিট আবেদনকারী যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন, সে ক্ষেত্রে ওই অফিস আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।”
তবে পুরো অফিস আদেশের কার্যকারিতাই স্থগিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন রিট আবেদনকারী পারভেজ হোসেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শুধু তাঁর মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অফিস আদেশ স্থগিত হয়েছে, নাকি সারা দেশের মাদ্রাসাগুলোর ক্ষেত্রে স্থগিত হবে, হাইকোর্টের পুরো আদেশ পেলে তা বুঝতে পারব।”
উল্লেখ্য যে, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অধীনস্থ ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর বর্তমান গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটি বাতিল, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি মনোনয়ন এবং নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ গত ১৯ অক্টোবর জারি করে। ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরিচালিত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি বা অ্যাডহক কমিটি বাতিল করা হলো।
আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আইনজীবী পারভেজ হোসেন বলেন, “ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রকার প্রেক্ষাপট বর্ণনা ছাড়াই সারা বাংলাদেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটি গঠনসংক্রান্ত যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।” এই অসংগতির কারণেই তিনি রিট আবেদনটি করেছেন বলে জানান।