মুক্তকণ্ঠে প্রকাশিত একটি বিশেষ সংবাদের পর সারা দেশের ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে ‘মাদ্রাসায় এখনও সভাপতি এমপিরা, নির্বিকার আরবি বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল মুক্তকণ্ঠ। ওই সংবাদের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সারাদেশের ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ‘মাদ্রাসায় এখনও সভাপতি এমপিরা, নির্বিকার আরবি বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছিল যে, হাইকোর্টের স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও অন্তত দুটি কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির পদে বহাল ছিলেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দুই সংসদ সদস্য (এমপি)। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই তাদের এই দায়িত্ব প্রদান করেছিল। বিষয়টি নিয়ে মুক্তকণ্ঠের প্রশ্নের জবাবে গভর্নিং বডি পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খান। তবে এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি ঠিক কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করতে পারেননি।

আইনি প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৬ সালে হাইকোর্ট সংসদ সদস্যদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে আপিল বিভাগও এই রায় বহাল রাখেন। এর ফলে পদাধিকারবলে কোনো সংসদ সদস্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার আইনি সুযোগ নেই।

সাধারণত ফাজিল (স্নাতক) ও কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়োগের দায়িত্ব পালন করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। বগুড়ার গাবতলীর তরফ সরতাজ কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, যাকে গত জুলাই মাসে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইভাবে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান। গত সেপ্টেম্বরে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়।

আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের আগস্ট মাসে এমপিদের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি না করার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে নিজেদের জারি করা সেই বিজ্ঞপ্তি উপেক্ষা করেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমপিদের মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে আসছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরেই এমপিদের এই সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক এ কে মুহা. নুরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এমপি পদবি ব্যবহার করে তারা সভাপতি হতে আবেদন করেননি। তাই তাদের সভাপতি করা হয়েছে। সারা দেশের বেসরকারি ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার কমিটিতে কারা থাকবেন, এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” তবে পদবি প্রদর্শন না করলেও সংসদ সদস্যদের সভাপতি করার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “একটি বিশেষ সিন্ডিকেট করে সারা দেশের ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি। কমিটি পরিবর্তন ছাড়া উপায় নেই, এই কমিটিগুলো নিয়ে অনেক ভেজাল রয়েছে।” তবে এই বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিটি পরিবর্তনের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে ব্যাপারে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।