একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ময়মনসিংহ নগর জামায়াতের এক নেতার রুকন পদ স্থগিত করা হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় দলের মহানগর কমিটির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

পদস্থ ওই নেতার নাম মো. শহীদুল্লাহ্ (৪৬)। তিনি ময়মনসিংহ নগরের নতুন বাজার থানা শাখার রুকনের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেশায় তিনি নগরের নওমহল এলাকায় অবস্থিত আল আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার একজন অফিস সহকারী।

ঘটনার সূত্রপাত আজ দুপুরে, যখন ‘জেন-জেড ময়মনসিংহ’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে কিছু ছবি ও ভিডিও পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে লেখা ছিল, ‘প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে ময়মনসিংহ ওয়ার্ড জামায়াত নেতার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।’ এছাড়া ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে, মো. শহীদুল্লাহ্-র সঙ্গে সিটি মেয়র প্রার্থী শহিদুল্লাহ কায়সারের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঘনিষ্ঠতা দেখা গেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মো. শহীদুল্লাহ্ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, অজ্ঞাতপরিচয় কেউ তাঁর ও তাঁর পরিবারের ক্ষতি করার এবং মানহানি করার উদ্দেশ্যে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ছবি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে সম্পাদনা করে ওই ছবি ও ভিডিও তৈরি করেছে।

আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে মুক্তকণ্ঠর সাথে আলাপকালে জামায়াত নেতা মো. শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘ভিডিওটি আমার স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা। কীভাবে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা আমি বলতে পারছি না। অজ্ঞাতনামা কেউ শত্রুতাবশত আমার মুঠোফোন থেকে এটি ছড়িয়ে দিয়ে থাকতে পারে।’

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ কায়সার। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি মুক্তকণ্ঠকে জানান, ‘জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগের সময় আমার সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার লোকজন থাকেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকজনও সেখানে অংশ নেন। ওই ব্যক্তি (মো. শহীদুল্লাহ্) হয়তো কোনো এক গণসংযোগে ছিলেন। সেই সময়ের একটি ছবি ব্যবহার করে বিরোধী একটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে জড়িয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।’

আজ সন্ধ্যার পর জামায়াতের ময়মনসিংহ মহানগর কমিটির জরুরি সভায় মো. শহীদুল্লাহ্‌র রুকন পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ওই নেতার ব্যক্তিগত। ওই নেতার দাবি, ভিডিওটি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা। তাঁর মুঠোফোন হ্যাক করে বা অন্য কোনোভাবে কে বা কারা ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছে, তা তিনি জানেন না। এ ঘটনায় তিনি সাইবার আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত তাঁর রুকনিয়ত স্থগিত করা হয়েছে। এটি নৈতিক স্খলনজনিত বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’