বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের ব্যাপক বিস্তার, ব্লকচেইনের কারিগরি নিরাপত্তাত্রুটি এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে ডিজিটাল সম্পদ খাতে হ্যাকিংয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির এই দুনিয়ায় সাইবার আক্রমণ এবং পরিকল্পিত হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রায়ই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঘটনা সামনে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের বাইন্যান্স হ্যাকিং থেকে শুরু করে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন বড় কেলেঙ্কারি ডিজিটাল সম্পদের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদিও হ্যাকিংয়ের সময় ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত বিশাল হয়ে দাঁড়ায়, তবে অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং তহবিল ফ্রিজ করার মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন ঘটনার তালিকায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের অক্টোবরে বাইন্যান্সে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের রেকর্ড পরিমাণ হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। তবে এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে বাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ই হি জানান, “এর মধ্যে ২৮৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এরই মধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে এবং সব ক্ষতি বাইন্যান্স নিজে বহন করবে।”
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট এক্সচেঞ্জে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের একটি বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই এই ঘটনার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হাত রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে। পরবর্তীতে গ্রাহকদের তহবিলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ২০২২ সালের মার্চ মাসে রনিন নেটওয়ার্ক বা অ্যাক্সি ইনফিনিটিতে প্রায় ৬২ কোটি ডলার সমপরিমাণ ক্রিপ্টো চুরি হয়। এই ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করা হয় এবং পরবর্তীতে ব্যবহারকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
২০২১ সালের আগস্টে পলি নেটওয়ার্কে প্রায় ৬১ কোটি ডলারের হ্যাকিং সংঘটিত হলেও এক বিস্ময়কর ঘটনায় হ্যাকার নিজেই প্রায় সব অর্থ ফেরত দিয়ে দেয়। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে কয়েনচেক এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ৫৩ কোটি ডলার চুরি হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ইয়েনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে যখন মাউন্ট গক্স থেকে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার বিটকয়েন চুরি হয়। এই বিশাল চুরির ফলে এক্সচেঞ্জটি দেউলিয়া হয়ে যায়। তবে ২০২৪ সাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি ২০২২ সালের নভেম্বরে এফটিএক্স দেউলিয়া হওয়ার দিনে প্রায় ৪৭ কোটি ডলারের তহবিল বেহিসাবে বেরিয়ে যায়। গত সেপ্টেম্বরে বিটগেট এক্সচেঞ্জ থেকেও প্রায় ৩৫ কোটি ডলার চুরি হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এছাড়া ২০১৯ সালের মে মাসে বাইন্যান্স থেকে সাত হাজার বিটকয়েন হ্যাক হয়েছিল। সূত্র: ক্রিপ্টো টিকার।