নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ‘ভেড়াভেড়ি কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা’ পরিদর্শনে এক পর্যায়ে চরম অব্যবস্থাপনা ও নানা গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। এসব গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার সুপারকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ দপ্তরে উপস্থিত হয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নোটিশের মাধ্যমে এই বিষয়টি সামনে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মো. আরিফুর রহমান বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১ অক্টোবর ভেড়াভেড়ি কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কার্যক্রম শেষ করে তিনি একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেন।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের ওই নির্দিষ্ট দিনে মাদ্রাসার মোট ১৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ১১ জন। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৩ জন। বাকি ২ জন শিক্ষক কোনো প্রকার ছুটি ছাড়াই মাদ্রাসায় অনুপস্থিত ছিলেন। তবে অবাক করা বিষয় হলো, ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত থাকা শিক্ষক মো. মোখলেছুর রহমান ‘শিক্ষক হাজিরা খাতা’য় অগ্রীম স্বাক্ষর করেন।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মাদ্রাসার কোনো ক্লাসেই ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত হাজিরা নেওয়া হয় না। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রাপ্তির বিষয়ে মাদ্রাসাটির অফিস নথিতে কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসার ভূ-সম্পত্তির বিষয়েও বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। কাগজপত্রে মাদ্রাসার নামে ১২৩ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ থাকলেও তার মধ্যে ৬৩ শতাংশ জমির কোনো নামজারি নেই। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক তদারকির অভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছে বলে পরিদর্শন প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়া, ক্লাসে হাজিরা না নেওয়া, ১২৩ শতাংশ জমির মধ্যে ৬৩ শতাংশ জমির নামজারি না থাকা, শিক্ষকদের ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং অনুপস্থিত শিক্ষকের ‘শিক্ষক হাজিরা খাতা’য় অগ্রীম স্বাক্ষর করা গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক শৃংখলা ভঙ্গের শামিল। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর বিধি ১৮(২)ক ধারামতে, প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের শৃংখলা ভঙ্গ ‘সাময়িক বরখাস্ত’ এর মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা অধিদপ্তরে উপস্থিত হয়ে সুপারকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত দুইজন শিক্ষকসহ সুপারের বিরুদ্ধে কেন বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার কারণ দর্শিয়ে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।