দেশের বাজারে গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতির কারণে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কিনতে হচ্ছে বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এরই ধারাবাহিকতায় এখন এই সিলিন্ডারের দাম আরও ২২৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত মাসেও এলপিজির দাম ২১২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

আজ সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন করে দাম ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম সমন্বয় করে থাকে।

বিইআরসি গত মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এবার নতুন করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন; গত দেড় মাস ধরে বাজারে এই সিলিন্ডারগুলো ২২শ থেকে ২৩শ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।

এলপিজি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বর্তমানে প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে গৃহস্থালির রান্নার কাজে এবং বাকি অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে। এই খাতের প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে, যারা এলপিজি আমদানি করে দেশে সরবরাহ করে। গত দুই মাসে এলপিজি আমদানির পরিমাণ তেমন কমেনি, তা সত্ত্বেও বাজারে এর সরবরাহ কমে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলপিজির এই নতুন মূল্য তালিকা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়, যার প্রতি কেজির দাম এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। এই একক মূল্যের ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। এছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা।

২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে বিইআরসি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। তবে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না। প্রায়ই সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে নেওয়া হয়। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করেও অনেক সময় সাধারণ মানুষ এলপিজি সংগ্রহ করতে পারছেন না।