দেশের তরুণ সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ঋণ প্রদানের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি উদ্যোগ’ শীর্ষক এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দেশের ৫৬ জেলার তরুণরা আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) থেকে এই ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এর আগে প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে আটটি জেলার তরুণদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্যানুসারে, এই কর্মসূচির আওতায় একজন যোগ্য উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন। এই ২০ লাখ টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা হবে ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে। অর্থাৎ, ঋণ ও অনুদানের সমন্বয়ে মোট ২০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। এই অর্থ এককালীন প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য যে, অনুদানের এই অর্থ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিএসআর (CSR) তহবিল থেকে সংগ্রহ করা হবে।

দেশের উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, প্রকৃত উদ্যোক্তাদের নির্বাচন এবং অর্থায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক ‘উদ্যোগ’: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে আটটি জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে।

প্রকল্পের সক্রিয়করণ পর্যায়ে আটটি বিভাগের আটটি জেলা— মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার সব উপজেলায় আবেদন নেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ওইসব উপজেলার তপশিলি ব্যাংকের শাখাগুলোতে তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

জেলাভিত্তিক আবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মানিকগঞ্জে জমা পড়েছে ১ হাজার ৩৪৩টি, ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি এবং নেত্রকোণায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫১টি আবেদন।

এর ধারাবাহিকতায়, আগে উল্লিখিত আটটি জেলা বাদে অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলার আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা ১ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তপশিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে পারবেন। আবেদন ফরমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং বিভিন্ন তপশিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা সম্ভব হবে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এর মাধ্যমে এই কর্মসূচির বিস্তারিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) এবং এসএমই পোর্টালে (www.bb.org.bd/smespd_portal) গিয়ে এই নীতিমালা দেখে নিতে পারবেন।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তারা ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে একটি কমিটি থাকবে। সেই কমিটিতে ব্যাংকার ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।”