বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত প্রণোদনা তহবিলের বিশাল বরাদ্দের বিপরীতে অতি সামান্য পরিমাণ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। বর্তমানে আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিতরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে এই খাতের মোট বরাদ্দের ৩ শতাংশেরও কম পেয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা।

সামগ্রিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রায় পাঁচ মাস আগে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে এই পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও প্রণোদনা তহবিলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ২০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই তহবিল থেকে মোট ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রণোদনা প্যাকেজের আওতাধীন ১৫টি প্রাক্-অর্থায়ন ও পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আরও ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার অর্থায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিতরণকৃত ও প্রক্রিয়াধীন অর্থের মোট পরিমাণ ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।”

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন স্কিমের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ক্রমপুঞ্জীভূত বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। কটেজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিশেষ স্কিমে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে প্রায় ৯০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমে ৫৬১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এই খাতে আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য গঠিত স্কিমে ৫০০ কোটি টাকা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পল্লী অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ২৯৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থায়ন স্কিমে ২০০ কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং স্টার্টআপ খাতে অর্থায়ন স্কিমে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। স্টার্টআপ স্কিমে আরও ৫ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অর্থায়ন স্কিমে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং ও গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিজ খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিমে ৫২৭ কোটি টাকা এবং চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিমুখী খাতে অর্থায়ন স্কিমে ৯৮ কোটি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ৬২ হাজার কোটি টাকার এই প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল। এই তহবিলের আওতায় শিল্পোদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার কথা, যার বাকি ৬ শতাংশ সুদ বহন করবে সরকার। এই প্রণোদনার মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পাঁচ মাস পর ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শিল্পকারখানাগুলো এই প্রণোদনার সুফল পাচ্ছে না; বরং জ্বালানি সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় ধুঁকছে তারা।