দীর্ঘ তিন ঘণ্টার উত্তেজনা ও যানজটের পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ছেড়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে মহাসড়কে স্থবির হয়ে পড়া যানবাহনগুলো ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা।

ঘটনার সূত্রপাত দুপুর ১টার দিকে, যখন ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজের একদল শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়ে অবস্থান নেয়। রাজীব পরিবহনের বাসের বেপরোয়া গতি ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং এই পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা আটকা পড়েন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজীব পরিবহনের বাসগুলো অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে চালানো হয়, যার ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে প্রতিনিয়ত মানুষ আহত ও নিহত হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ নগরের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাস ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে, যাতে একসঙ্গে সাতজন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে চারজনই ছিলেন একই পরিবারের সদস্য। এছাড়া গতকাল রোববার সকালেও সদরের চুরখাই এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাসচাপায় নটরডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম নিহত হন। বিভিন্ন সময়ে এই পরিবহনের মাধ্যমে আরও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে এবং রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতেই তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনের সাথে যুক্ত নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম জানান, সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি এবং পুলিশের দেওয়া আশ্বাসের কথা বিবেচনা করে আপাতত মহাসড়ক থেকে সরে গেছে শিক্ষার্থীরা। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যাত্রীদের ভোগান্তি বিবেচনায় ও পুলিশের আশ্বাসে আপাতত মহাসড়ক থেকে সরে গেছে শিক্ষার্থীরা। দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”

পুরো বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “জনদুর্ভোগের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বিকেল ৪টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরানো হয়েছে। রাজীব বাস মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করা হবে কিনা, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে।”