রাজীব পরিবহনের বাসের বেপরোয়া গতি ও একের পর এক দুর্ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ময়মনগরের দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়ে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজীব পরিবহনের বাসগুলো অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে চালানো হয়, যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং অনেকে গুরুতর আহত হচ্ছেন। তারা জানান, গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ নগরের পূর্ব গন্দ্রপা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাস ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে সাতজন নিহত হন, যাদের মধ্যে চারজন ছিলেন একই পরিবারের সদস্য।
দুর্ঘটনার মিছিল আরও দীর্ঘ হয়েছে রোববার (১ নভেম্বর) সকালে। সদরের চুরখাই এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় নটরডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম নিহত হন। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে এই পরিবহনের বাসের কারণে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, “রোববার তাদের বন্ধু জাকিউল মারা গেছেন। রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে আন্দোলন চলবে।”
এদিকে, মহাসড়কের এই যানজটে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আটকা পড়া যাত্রী দম্পতি মনোয়ার হোসেন ও রাবিয়া জানান, তারা বাসে থাকা অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে আছেন। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরে আসা উচিত। তারা মনে করেন, সব সমস্যাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে।”