শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণে তিনজন নিহতের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি প্রকাশ্যে শরীয়তপুর–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদকে ফুলের মালা পরিয়ে দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিলাশপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পলাতক আসামি প্রকাশ্যে এলাকায় ফিরে বিএনপির প্রার্থীকে ফুলের মালা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিস্ফোরণে তিন মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলায় বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তাঁর তিন ভাইকে আসামি করা হয়েছে। কুদ্দুস উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। মামলার প্রধান আসামি তাঁর ভাই নুরুল ইসলাম। তিনি গতকাল বিকেলে বিলাশপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে ফিরে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। এ ঘটনার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে একটি বসতঘরের মধ্যে ককটেল বোমা তৈরি করার সময় গত ৮ জানুয়ারি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ঘটনাস্থলের কাছে একটি ফসলি জমি থেকে সোহান ব্যাপারী নামের একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবীন হোসেন ও নয়ন মোল্লা নামের আরও দুজন মারা যান।

এ ঘটনায় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম বাদী হয়ে ৫৩ জনকে আসামি করে ও ১৫০ জন অজ্ঞাত আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা কারাগারে আছেন। বাকি আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তাঁরা এলাকায় আসছেন। তাঁদের পক্ষের লোকজন সংগঠিত করছেন। ওই বিস্ফোরণের পর জাজিরার বিলাশপুর থেকে কয়েক দফায় অন্তত ৮০টি ককটেল উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

এ বিষয়ে কথা বলতে নুরুল ইসলাম ও কুদ্দুস ব্যাপারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি প্রার্থী। ভোট চাওয়ার জন্য ও প্রচার-প্রচারণার জন্য এলাকায় যাই। সেখানে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। কে পলাতক আসামি, তা জানারও সুযোগ থাকে না। আমার কাছে কোনো অপরাধীর স্থান নেই।’

বিলাশপুরে বিস্ফোরণে নিহত নবীনের বোন রহিমা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁরা অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরছেন। পুলিশ তাঁদের ধরছে না। আমরা পুলিশের কাছে গেলে তারা বলে, নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত। অথচ নির্বাচনের প্রার্থীর সঙ্গে আসামিরা মিছিল-মিটিং করছে। আসামিরা আমাদের নানাভাবে হুমকিধমকি দিচ্ছে।’

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) তানভীর হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিলাশপুরের বিস্ফোরণের ঘটনার মামলার কয়েকজন আসামিকে ধরা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কেউ প্রকাশ্যে এলাকায় আসছেন, এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। একজন আসামি বিএনপির প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে দিয়েছেন, এমন তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সে কীভাবে সেখানে এল, তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা রাতভর অভিযান চালিয়েছি।’