মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এই আন্দোলনের মুখে আজও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গাজীপুরের দুটি মহাসড়ক। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টার পর থেকেই পোশাক শ্রমিকরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে চলা এই অচলাবস্থার পর পুলিশ ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর প্রচেষ্টায় দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সোমবার সকাল থেকে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্র এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের এই জমায়েত ও অবরোধ ভঙ্গ করতে বিজিবি ও পুলিশ ধাওয়া করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আহত হন।

অন্যদিকে, বেলা ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় আন্দোলনকারীরা পুলিশের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। এই বিশৃঙ্খলার মাঝে সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এর আগে আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্প পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। দুপুর ১টার পর শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, “আজও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছে। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে শিল্প পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।”

অন্যদিকে, কালিয়াকৈরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকরা আগেই ঘরে ফিরে গেছে। এখন যারা রয়েছেন তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, এরা শ্রমিক নন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় মহাসড়কে যানচলাচল শুরু হয়েছে।”