ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে টানা সাত ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকেরা। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে দীর্ঘ যানজটের পর মহাসড়কে যানচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রোববার সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। সময়ের সাথে সাথে আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা ও লোহার পাইপ হাতে নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন শ্রমিকেরা সড়কের মাঝখানে মোটরসাইকেল এবং কাঠের আসবাবপত্রের স্তূপে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থিত পুলিশ বক্স এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া যমুনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি কারখানার গেটে ভাঙচুর চালানো হয় এবং এক সংবাদকর্মীকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, যার ফলে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে চলে যান এবং যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা তাদের দাবির কথা জানিয়ে বলেন, বর্তমানে সব পণ্যের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা জানান, “সবকিছুর দাম বেশি। একটি গ্যাসের বোতল কিনতে হয় দুই হাজার ৫০০ টাকায়। মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, তাদের বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ঘোষণা করতে হবে। সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।” শ্রমিকদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন, কিন্তু বহিরাগতরা তাদের মাঝে ঢুকে পড়ে কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটিয়ে পরিস্থিতি খারাপ করেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, “আমরা সকাল থেকে মহাসড়কে ছিলাম। বিজিবি, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি। সর্বশেষ বিকেলে শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। এরপর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।”

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের এই আন্দোলন গত কয়েক দিন ধরেই চলছে এবং রোববারও তা অব্যাহত ছিল। এই পরিস্থিতির কারণে ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি, এসআরবি, জেলা, মহানগর ও শিল্প পুলিশ একযোগে কাজ করেছে এবং বর্তমানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।