বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলা শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বরে এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা কমান্ড’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির এক পর্যায়ে বক্তারা পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ব্যক্ত করেন। একই সাথে তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, মানিক পশারী ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, তাঁর গার্ড অব অনার, জানাজা ও দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে তাঁরা জানান। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান উপস্থিত সকলে।

বক্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই তারা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা, গার্ড অব অনার ও দাফন কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে।

এই মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব মো. হাবিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা বসির উদ্দিন ফারুকী, গিয়াস উদ্দিন, করিমগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান দুলাল শিকদার, হোসেনপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন মজলু, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদউল্লাহ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সারওয়ার আলম মাসুদ, সহসভাপতি শরিফ মিয়া এবং উপদেষ্টা জামিল আনসারীসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পন্ন করে।