দীর্ঘ ২৭ বছরের বিরতির পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল হলেন মো. আমিনুল ইসলাম। জীবনের নানা ব্যস্ততা এবং জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের মাঝেও পড়াশোনার প্রতি অটুট আগ্রহ তাকে পৌঁছে দিল এই সাফল্যে। ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, শিক্ষার কোনো বয়স নেই।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের মেডিক্যাল মোড় এলাকার বাসিন্দা তোরাব আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। টানা তিন মেয়াদে ইউপি সদস্য হিসেবে কাজ করছেন তিনি। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী ও তিন সন্তানের জনক আমিনুল ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করেছিলেন। তবে জীবনের নানা মোড়ে ব্যস্ততার কারণে তখন পড়াশোনা মাঝপথে থেমে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও উচ্চমাধ্যমিক পাস করার স্বপ্নটি তিনি মনে লালন করে রেখেছিলেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল এবার।
আমিনুলের এই সাফল্যের সাথে যুক্ত হয়েছে এক অনন্য পারিবারিক আনন্দ। চলতি বছর তাঁর স্ত্রী মোসা. হুসনে আরা এবং বড় ছেলে মো. স্বাধীন উভয়েই এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। একই বছরে পরিবারের তিন সদস্যের এই যৌথ সাফল্যে তাঁদের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বয়স, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা পেশাগত ব্যস্ততা যে জ্ঞান অর্জনের পথে অন্তরায় হতে পারে না, আমিনুলের এই দৃষ্টান্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বছর গাজীপুর মহানগরের পুবাইল কারিগরি কলেজের ড্রেস মেকিং ট্রেড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন আমিনুল। ফলাফল প্রকাশের পর তিনি জানতে পারেন যে, জিপিএ-৪ দশমিক ৪৬ পেয়ে তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে স্ত্রী ফোন করে পাসের খবরটি জানান। খবরটি শুনে খুব আনন্দিত হয়েছি। ২৭ বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করে পরীক্ষায় পাস করা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল এইচএসসি পাস করার। সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এখন আরও পড়াশোনা করতে চাই। আমি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করব।’
আমিনুলের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তাঁর সহকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ। মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামীম মৃধা বলেন, ‘খবরটি শুনে আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছি। বয়স যে পড়াশোনার বাধা নয়, তিনি তা প্রমাণ করেছেন। চেষ্টা ও অধ্যবসায় থাকলে অনেক দূর যাওয়া যায়।’
আমিনুলের এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা। তিনি বলেন, ‘৪৭ বছর বয়সে ধৈর্য ধরে পড়াশোনা করে এইচএসসি পাস করা অত্যন্ত আনন্দের খবর। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর এই অর্জন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকা বয়স্ক অনেক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হবে।’