দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হারের দিক থেকে সবার পেছনে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এ দেশে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের হিসেবে সর্বনিম্ন পর্যায়।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এই হার ছিল আরও বেশি, ৯০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। নেপালে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষায় পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে ৬১ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫ থেকে ৭২ শতাংশের মধ্যে ছিল বলে জানা গেছে।

তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের এই ফলাফলের সরাসরি তুলনা করা বেশ জটিল। কারণ, এই দুই দেশে বাংলাদেশের মতো কোনো একক কেন্দ্রীয় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত নেই। তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে এ-লেভেল পরীক্ষায় পাসের হার ছিল প্রায় ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্নের হার ছিল ৮৭ শতাংশের বেশি।

শিক্ষাবিদদের অভিমত হলো, প্রতিটি দেশের শিক্ষাক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পাসের মানদণ্ড ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই কেবল পাসের হারের পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো দেশের শিক্ষার সামগ্রিক মান বিচার করা সম্ভব নয়। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতেও, কোনো নির্দিষ্ট পাসের হারকে ভালো ফলের সর্বজনীন মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

এই বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, “অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক চাপের কারণে পরীক্ষার পাসের হার বাড়ানো বা কমানোর প্রবণতা ছিল। প্রশ্নপত্রের মান, খাতা মূল্যায়নের কঠোরতা এবং নম্বর দেওয়ার পদ্ধতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলে।”

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পাসের হার কমে যাওয়া বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে তারা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়ায় জাতীয় পাসের হারের চেয়ে একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গ্রেড, ফলাফল এবং অন্যান্য যোগ্যতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।