বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে জয়লাভ করতে চলেছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক তথ্যানুসারে এই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইতিমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন।
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের একাধিক বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ইয়োতোভা মোট ভোটের ৫৮ শতাংশ পেয়েছেন। রাজনৈতিক আদর্শের দিক থেকে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের পক্ষে এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিরোধী। সরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হলে এবং এই ধারা বজায় থাকলে, তিনি হবেন বুলগেরিয়ার ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, ইয়োতোভার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভ প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে পিছিয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। পশ্চিমাপন্থী বিরোধীদের সমর্থন পাওয়া গিউরভ পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, “ফলাফল যা এসেছে, তা মেনে নিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বুলগেরিয়ার নাগরিকেরা এভাবেই তাঁদের রায় (ভোট) দিয়েছেন।”
বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল ২৭ থেকে ২৯ শতাংশের মধ্যে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনের তুলনায় এই হার কিছুটা বেশি। উল্লেখ্য, প্রথম দফার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যা দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ছিল।
আজ সোমবার ভোট গণনা শেষ হলে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুলগেরিয়ায় প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব মূলত আনুষ্ঠানিক। ৬১ বছর বয়সী ইলিয়ানা ইয়োতোভা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র রুমেন রাদেভ পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ইয়োতোভা এই দায়িত্ব পান। বর্তমানে রুমেন রাদেভ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজধানী সোফিয়ার ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষক ক্রাসিমিরা কোস্তোভা এএফপিকে জানান, “দুই প্রার্থীর কাউকেই আমার পছন্দ নয়।” অন্যদিকে, ৬৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী পেতার দোইচিনভ জানান, প্রথম দফার ভোটে তিনি অংশ নেননি কারণ তাঁর ধারণা ছিল দ্বিতীয় দফার ভোট হবে। তিনি আরও বলেন, তিনি ‘কম খারাপ’ প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, কারণ কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থানই তাঁর ‘গণতন্ত্রের ভাবনার’ সঙ্গে মেলে না।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূল সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক কয়েকটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব থেকেই এই হামলাগুলো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাদেভ মন্তব্য করেছেন যে, এসব হামলা মস্কোর স্বার্থ রক্ষা করছে। এই ঘটনায় তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করলেও তাঁর সরকার জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে মস্কোর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই প্রার্থীই এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ব্যাংকার ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী গিউরভ টেলিভিশন বিতর্কে রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী না করায় ইয়োতোভার সমালোচনা করেন। গিউরভ বলেন, “পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাশিয়াকে অবশ্যই তার আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।”
এর বিপরীতে ইয়োতোভার অবস্থান ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, “শুধু আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি আসতে পারে।” ভোট দেওয়ার পর ইয়োতোভা তাঁর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেন, তিনি চান, “শক্তিশালী ইউরোপে বুলগেরিয়া শক্তিশালী হোক” এবং “নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সার্বভৌম থাকুক”।
গত সপ্তাহের প্রথম দফার ভোটে ইয়োতোভা ৩৫ শতাংশ এবং গিউরভ ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। যদিও জনমত জরিপে ইয়োতোভার ২০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তবে প্রকৃত ভোটের ফলাফলে দুই প্রার্থীর ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য।