বল হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেও দলকে জয়ের মুখ দেখাতে পারলেন না সাকিব আল হাসান। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) মঈন আলী ও সাইফ হাসানসহ তিন ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে মাত্র ১৫ রান খরচ করেছেন বাংলাদেশের এই সাবেক অধিনায়ক। তবে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত জানাকপুর বোল্টসের কাছে ৯ রানে পরাজিত হয়েছে তার দল পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স। সাকিবের বোলিংয়ের উজ্জ্বলতা ম্লান করে জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার মঈন আলী, যিনি মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পোখারার ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনেন।
রোববার (১ নভেম্বর) নেপালের কীর্তিপুরে অবস্থিত ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পোখারা। সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় জানাকপুর। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৮ রান করে পরাজিত হয় পোখারা।
বোলিংয়ে শুরু থেকেই অত্যন্ত কার্যকর ছিলেন সাকিব। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে মঈন আলীকে বোল্ড করে প্রথম সাফল্য পান এই বাঁহাতি স্পিনার। তবে তার আগে ১৬ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২১ রান করে নেন ইংলিশ অলরাউন্ডার।
নিজের পরবর্তী ওভারেই আবারও উইকেটের দেখা পান সাকিব। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার সাইফ হাসানকে বোল্ড করেন তিনি। ৯ বল খেলে মাত্র ১ রান করতে সক্ষম হন সাইফ।
সাকিবের সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকে। ১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জানাকপুর অধিনায়ক হারমিত সিংকে আউট করে নিজের তৃতীয় উইকেটটি তুলে নেন তিনি। ৮ বলে ৯ রান করা হারমিত চামিকা করুণারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন।
প্রথম তিন ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েন সাকিব। তবে শেষ ওভারে ১১ রান খরচ করায় চার ওভারের হিসেবে তার বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড়ায় ১৫ রানে ৩ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দেওয়ার হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৭৫।
সাকিবের পাশাপাশি ভালো বোলিং করেছেন বাংলাদেশের আরেক স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তিনি চার ওভারে একটি মেডেনসহ ২৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও একটি উইকেট পান, তবে এক ওভারেই ১৭ রান খরচ করেন এই পেসার। পোখারার পক্ষে চামিকা করুণারত্নে দুটি উইকেট শিকার করেন।
জানাকপুরের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ত্রিত রাজ দাস। ৫৫ বলে সাতটি চার ও দুটি ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। শেষ দিকে অভিষেক তিওয়ারির ১০ বলে অপরাজিত ২৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস জানাকপুরকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দেয়।
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় পোখারা। দ্বিতীয় ওভারে শেখ মেহেদীকে আউট করেন মঈন আলী। ৪ বলে ৮ রান করেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। এরপর চতুর্থ ওভারে দীনেশ খারেলকেও ফিরিয়ে দেন মঈন। মাত্র ২৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পোখারা।
সেখান থেকে অধিনায়ক কুশল ভুর্তেল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৪ বলে পাঁচটি চারে ৩৫ রান করেন তিনি। তবে সপ্তম ওভারে ললিত রাজবংশীর বলে আউট হয়ে গেলে আবারও বিপদে পড়ে পোখারা।
এরপর দলের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাকিব, কিন্তু ব্যাট হাতে তিনি প্রত্যাশিত সুবিধা করতে পারেননি। ১৭ বল মোকাবিলা করে কোনো বাউন্ডারি ছাড়াই মাত্র ৯ রান করেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
১২তম ওভারে পোখারাকে জোড়া ধাক্কা দেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় বলে ১৫ বলে ৭ রান করা অর্জুন ঘার্তিকে আউট করেন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে সাকিবকেও ফিরিয়ে দেন সাইফ। মায়ান যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সাকিব। ফলে মাত্র ৮৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে পোখারা।
এরপর ৫ বলে ১৫ রান করা কিরণ থাগুন্নাকে আউট করেন হারমিত সিং। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের আরেক ক্রিকেটার সাইফউদ্দিন। দুই বল খেলে কোনো রান না করেই মঈনের বলে বোল্ড হন তিনি।
শেষ দিকে বিপিন আচার্যের ১৯ বলে ২০ এবং বিপিন খাত্রির ১৪ বলে অপরাজিত ১৭ রানের প্রচেষ্টায় হারের ব্যবধান কিছুটা কমায় পোখারা। তবে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে তারা ব্যর্থ হয়।
জানাকপুরের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মঈন আলী। চার ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার। এছাড়া হারমিত সিং ও সাইফ হাসান দুটি করে এবং ললিত রাজবংশী একটি উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত ৯ রানের পরাজয় মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পোখারাকে। সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় জয় অধরাই থেকে যায় দলটির।