নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় এবার পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশি স্পিন অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসানকে। আসন্ন তৃতীয় আসরের জন্য তাকে দলে ভেড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। উল্লেখ্য, একই দলে ইতিপূর্বেই নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে মেহেদীকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পোখারা। বাংলাদেশি এই অলরাউন্ডারকে স্বাগত জানাতে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

ভিডিওর সাথে সংযুক্ত বার্তায় মেহেদীকে স্বাগত জানিয়ে পোখারা উল্লেখ করেছে, "বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার আইসিসির টি-টোয়েন্টি বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছেন।"

এনপিএলের তৃতীয় আসরে মেহেদীর পারফরম্যান্স নিয়ে যথেষ্ট উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ৩১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এবং বল হাতে সমানসংখ্যক উইকেট শিকার করেছেন। অফ স্পিনের পাশাপাশি তিনি ব্যাটিংয়ের নিচের অর্ডারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সে মেহেদীর সাথে থাকছেন বাংলাদেশের আরও কয়েকজন ক্রিকেটার। সাকিবের পাশাপাশি দলটিতে যুক্ত হয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে আলোচিত স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। এছাড়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকেও দলে নিতে আগ্রহী এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে তার ফিটনেস পরীক্ষার বিষয়টি সামনে আসায় চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

যদিও পোখারা মেহেদীকে দলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবে নেপালে খেলতে যাওয়ার জন্য তার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি প্রয়োজন। মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনি সেই অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানিয়েছিল ক্রিকফ্রেঞ্জি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি চুক্তির ঘোষণা দিলেও মেহেদী চূড়ান্ত অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন কি না, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এবারের এনপিএলে আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। বিরাটনগর কিংস দলে নেওয়া হয়েছে জিসান আলমকে। অন্যদিকে কর্নালি ইয়াকসের হয়ে খেলার কথা রয়েছে আকবর আলী ও আরিফুল ইসলামের। এছাড়া লুম্বিনি লায়ন্সের হয়ে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে শামীম হোসেন পাটোয়ারীরও। তবে তার অংশগ্রহণও বিসিবির অনাপত্তিপত্র পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসর। টুর্নামেন্টটি চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত, যার মধ্য দিয়ে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে শেষ হবে। প্রতিযোগিতার সবকটি ম্যাচ কাঠমান্ডুর কীর্তিপুরে অবস্থিত ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।