আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের হাতেই থাকবে বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তার মতে, ইউপি নির্বাচনে কারা চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী হবেন এবং কারা নির্বাচিত হবেন, তা নির্ধারণ করার মূল দায়িত্ব এমপির।

গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি যুব সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে বলতে শোনা যায়, “ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার ও চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবেন, নলা (পায়ের নালা) নিয়ে বাড়িতে যাইতে পারবেন না। মেম্বার, চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে এমপি, এটা এমপির দায়িত্ব। মনোনয়ন দিবে এমপি, তবে মনোনয়ন এমপি এককভাবে দিবে না।”

বক্তব্যেরই এক অংশে তিনি উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থানীয় নেতাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনার পর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের নির্ধারিত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান, তবে তা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী হবে।

এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া জানান, দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করে বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ার জন্য যারা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, মূলত তাদের উদ্দেশ্য করেই তিনি ওই কথাগুলো বলেছেন।

ওই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে দল-সমর্থিত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। তবে এককভাবে কাউকে মনোনয়ন দেব, এমন কথা বলিনি।”

উল্লেখ্য যে, উক্ত যুব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সালেহ আহমদ সালেহ, যুবদল নেতা নাসির উদ্দিন, জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি হামিদুল হক ভূঁইয়া, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ।