কুমিল্লার লালমাই উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ জাবেদসহ মোট ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মিয়াজী।

আদালত মামলার অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুমিল্লাকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় নামোল্লেখ করা উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন লালমাই উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহ আলম, যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান মজুমদার, ডা. মহিন উদ্দিন, ইকবাল হোসেন মজুমদার, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মানিক মিয়া, সৌরভ হোসেন, কামাল হোসেন, সেরাজুল হক ওরফে চারু, ছাত্রদল নেতা আল আমিন অয়ন ও রাজু আহমেদসহ আরও অনেকে।

মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে লালমাই উপজেলা যুবদলের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতীকী ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, মিছিল শেষ হওয়ার পর যুবদল আহ্বায়ক জাবের আহমেদ জাবেদের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠি ও এসএস পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে অবস্থান নেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় তারা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা লালমাই উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের তালা ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে কার্যালয়ে লাগানো পোস্টার, ব্যানার এবং দলীয় নেতাদের ছবিগুলো ছিঁড়ে বাইরে এনে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার অন্যতম আসামি ও লালমাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ জাবেদ। মুক্তকণ্ঠকে তিনি জানান, “ঘটনার দিন দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছেন। সেখানে পুলিশও উপস্থিত ছিল। পরে বিএনপি কার্যালয়ে কারা হামলা বা ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।”

তার দাবি, “হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাকে ও দলের অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী মিয়াজী মুক্তকণ্ঠকে জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, “আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই-কুমিল্লাকে নির্দেশ দিয়েছেন।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার আসামিদের অধিকাংশই কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষ কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী বলে দাবি করা হয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লালমাইয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।