ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী মনোনয়ন প্রদান এবং তাঁদের নির্বাচিত করার মূল দায়িত্ব সংসদ সদস্যের বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার ও চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবেন, নলা (পায়ের নালা) নিয়ে বাড়িতে যাইতে পারবেন না।’
গতকাল শনিবার দুপুরে নাঙ্গলকোটে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এই মন্তব্য করেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার ও চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবেন, নলা নিয়ে বাড়িতে যাইতে পারবেন না। মেম্বার, চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে এমপি, এটা এমপির দায়িত্ব। মনোনয়ন দিবে এমপি, তবে মনোনয়ন এমপি এককভাবে দিবে না। স্ব স্ব ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কানা-আন্ধা যারে দিব, সেই যোগ্য। কোনো আওয়াজ করা যাবে না, ভাই হেতে অযোগ্য, হেতেরে এমপি সিদ্ধান্ত দিছেন তোমাদেরকে নিয়ে, এটাই তার যোগ্যতা।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারবেন না। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আজ রোববার বিকেলে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘যারা দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করে বিদ্রোহী প্রার্থী দেবে বলে নেতা–কর্মীদের উসকানিমূলক কথা বলছেন, তাঁদের উদ্দেশে আমি এই কথা বলেছি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে দল-সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করা হবে। এককভাবে কাউকে মনোনয়ন দেব, এমন কথা বলিনি।’
শনিবারের ওই সমাবেশে উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সালেহ আহমদ সালেহ, যুবদল নেতা নাসির উদ্দিন, জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি হামিদুল হক ভূঁইয়া, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ।