বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারকে নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে ‘আজগুবি’ বলে অভিহিত করেছে দলটি।
রোববার (১ নভেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে ৭০০টি ই-রিকশা থাকার এবং সেগুলোর মধ্যে পাঁচটির নিবন্ধন বৈধভাবে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আজগুবি, ডাহা মিথ্যা, বানোয়াট এবং ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যকর বক্তব্যের আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে ৭০০টি ই-রিকশা থাকার যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতে, অত্যন্ত দায়িত্বশীল একটি পদে থেকে কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন কথা বলা অনভিপ্রেত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। তিনি মনে করিয়ে দেন, কিছুদিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও একই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা বলেছিলেন। সেই সময়ে জামায়াত এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছিল যে, অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ থাকলে তা জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। জুবায়েরের দাবি, এখন প্রতিমন্ত্রীও একই ধরনের ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তবে জাতি তাদের কথা বিশ্বাস করে না।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে ৭০০টি ই-রিকশা থাকা তো দূরের কথা, তার নামে একটি রিকশাও নেই। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তথ্য-প্রমাণহীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতির শেষ অংশে তিনি প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করুন। অন্যথায় এ ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করুন।’