নড়াইল শহরের ভাদুলিডাঙ্গা এলাকায় এক প্রকৌশলীর বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার ভোররাতে প্রকৌশলী মানিক বিশ্বাসের বাড়িতে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, ডাকাতেরা তাঁদের জিম্মি করে আনুমানিক ৯০ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মানিক বিশ্বাস নড়াইল পৌরসভার ভাদুলিডাঙ্গা এলাকার প্রয়াত সুধীর কুমার বিশ্বাসের সন্তান। তিনি পেশাগত কারণে ঢাকায় বসবাস করেন। তবে ভাদুলিডাঙ্গার এই বাড়িতেই থাকেন তাঁর বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমর কুমার বিশ্বাস।
জানা গেছে, সম্প্রতি দুর্গাপূজা এবং একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই উপলক্ষ্যে বাইরে থেকে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনরা বাড়িতে একত্রিত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন থাকায় তাঁদের অনেকের কাছেই প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালংকার ছিল বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের বিবরণ অনুযায়ী, আজ ভোররাতে মুখোশ পরিহিত ছয় থেকে সাতজনের একটি ডাকাত দল বাড়ির উত্তর পাশের একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢুকে তারা বাড়ির সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। এরপর পরিবারের সদস্য এবং বাড়িতে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় এক লাখ টাকা নগদ এবং একটি ক্যামেরা লুট করে নিয়ে যায় অপরাধীরা।
ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে সমর কুমার বিশ্বাস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তিন-চারজন লোক আমার রুমে এসে ডাকিছে। পরে একটা গামছা ছিঁড়ে আমার হাত বাঁধে। এরপর তারা আমাকে বলে, ‘আপনার কাছে পয়সা-কড়ি আছে?’ আমি আলমারি দেখায় দিয়ে বললাম, ‘আনুমানিক ১০-২০ হাজার টাকা আছে।’ এরপর আমাদের সবাইকে আমার ছোট মেয়ের রুমে নিয়ে বলে, ‘আপনারা চিৎকার করবেন না। চিৎকার করলে বোম মেরে উড়িয়ে দেব।’ আমরা চিৎকার করব না বলার পর সবকিছু লুট করে নিয়ে চলে যায়। আর শুরুতেই তারা আমাদের সবার মোবাইল নিয়ে নিয়েছিল।’
খবর পাওয়ার পরপরই আজ সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ আনুষঙ্গিক যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো সংগ্রহ করছি। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আমরা এই বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করব।’