নোয়াখালী সদর উপজেলায় দরজা ভেঙে বসতঘরে ঢুকে পড়ে একদল ডাকাত। গোলমাল শুনে ঘুম থেকে উঠে এগিয়ে আসতেই কুপিয়ে আহত করে বাবা–ছেলেকে। এরপর অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার ১ নম্বর চরমটুয়া ইউনিয়নের খোলিশা টোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধারালো অস্ত্রধারী ডাকাত দল বসতঘরে ঢুকে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে। আহত বাবার নাম নজির আহমদ (৫৫) ও ছেলের নাম হৃদয় হোসেন (২২)।

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত তিনটার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আট সদস্যের একটি ডাকাত দল ওই গ্রামে আসে। পরে নজির আহমদের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে তারা। এ সময় বাধা দিলে নজির আহমদ ও তাঁর ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে নজির আহমদের বাঁ হাতের আঙুল ও তাঁর ছেলে হৃদয় হোসেনের বাঁ বাহু কেটে যায়। পরে রাতেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজিব আহমদ চৌধুরী জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত নজির আহমদ ও হৃদয় হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে আজ দুপুরের দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয়। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আহত নজির আহমদের শ্যালক নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ডাকাতির সময় ডাকাত দল পৌনে দুই ভরি সোনা ও নগদ টাকা লুটে নেয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরে এলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।