মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে সাত কোটি ৩৫ লাখ টাকার ৩২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে দুজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্তের নাগারবিল এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, নাজিরাকোনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১১০ থেকে আনুমানিক ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাগারবিল এলাকা দিয়ে স্বর্ণের একটি বড় চালান পাচারের চেষ্টা হতে পারে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহলদল ওই এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল। রোববার দুপুরে একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে দুই ব্যক্তিকে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এসময় ওই ব্যক্তিরা ব্যাগটি ফেলে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন, তবে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া ব্যাগটি তল্লাশি করে ৩২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তি দু'জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে মো. আসাদুল (৫০) এবং একই গ্রামের মাদারের ছেলে মো. জুয়েল হোসেন (৩০)।
বিজিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উদ্ধার করা ৩২টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ৩ কেজি ৯৪১ গ্রাম। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী এসব স্বর্ণের আনুমানিক দাম সাত কোটি ৩৫ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা।
এই অভিযান সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। অভিযানে ৩২টি স্বর্ণের বারসহ দুই পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান, মাদক পাচারসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, “আটক দুই ব্যক্তিকে মুজিবনগর থানায় হস্তান্তর এবং উদ্ধার করা স্বর্ণ মেহেরপুর ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”