মেহেরপুরের মুজিবনগরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সদস্য বা মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে মুজিবনগর উপজেলার রশিকপুর গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনাটি ঘটে।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তদন্ত কর্মকর্তা সেলিম জাহাঙ্গীর মুক্তকণ্ঠকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. এরশাদ (৪০), ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসলাম হোসেন (২৮) এবং মাহাতাব উদ্দিন ওরফে পচা (৪০)।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে মাসুদ অরুণ ও আমিরুলের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। কথা কাটাকাটি থেকে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চালানো হামলায় মাহাতাব উদ্দিন, আসলাম হোসেন ও এরশাদ আহত হন।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা মাহাতাব উদ্দিন ও আসলাম হোসেনকে উদ্ধার করে দ্রুত মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আসলাম হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মাহাতাব উদ্দিনকে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আহত এরশাদকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুতই মুজিবনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, এই উত্তেজনার কারণে আবারও সংঘাত হতে পারে।

এই বিষয়ে মুজিবনগর থানার ওসি তদন্ত সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, “পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”