মায়ের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, কিন্তু বিয়ের পর থেকে মেহেরপুরের মুজিবনগরেই বসবাস করে আসছিলেন হাফিজা খাতুন। দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতার কারণে তিনি আর ভারতে গিয়ে মাকে দেখতে পাননি। এরই মধ্যে গতকাল বুধবার রাতে আকস্মিকভাবে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পান তিনি। তবে কাঁটাতারের বেষ্টনী ও সীমান্ত ব্যবস্থার কারণে চাইলেই তাঁর পক্ষে ভারতে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
মায়ের শেষবারের মতো মুখ দেখার তীব্র আকুতি নিয়ে হাফিজা খাতুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) শরণাপন্ন হন। তাঁর এই মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজিবি এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) যৌথ সহযোগিতায় সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ পান হাফিজা খাতুন ও তাঁর স্বামী ফিকির আলী।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে মুজিবনগরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের নিকটবর্তী স্থানে তাঁদের এই সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মায়ের মরদেহ সামনে আসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাফিজা ও তাঁর স্বামী। উল্লেখ্য, হাফিজার শ্বশুরবাড়ি মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে এবং ২০২০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাফিজার মা মোছা. জায়রা খাতুনের (৭০) বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে গতকাল রাতে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর হাফিজা খাতুন বিজিবির কাছে আবেদন জানান যেন তাঁকে শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। বিজিবি subsequently বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই মানবিক ব্যবস্থার সমন্বয় করে।
হাফিজা খাতুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিয়ের পর ভিসা করে কয়েকবার ভারতে মাকে দেখতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। কয়েক বছর হলো ভিসা জটিলতায় আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। হঠাৎ গতকাল রাতে সংবাদ আসে মা মারা গেছেন।”
এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিজিবির মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা বিওপির কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামসহ পাঁচজন সদস্য এবং বিএসএফের পরিদর্শক এস কে রায়সহ পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে হাবিলদার শরিফুল ইসলাম বলেন, “মানবিক আবেদনের পর আমরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারাও সম্মতি দেওয়ায় শেষবারের মতো মায়ের মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।”
বিজিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, মরদেহ দেখার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভারতের নিজ গ্রামেই মোছা. জায়রার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।