মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া সীমান্তে ১০ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃঢ় প্রতিরোধে বিএসএফের এই দুই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আজ রোববার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রংমহল সীমান্তে ছয়জন এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে চারজনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়।

মেহেরপুরের গাংনীর রংমহল সীমান্তে বিএসএফ ছয়জন নারী ও পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় ছয় ঘণ্টা শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর শেষ পর্যন্ত ওই ছয়জনকে ফেরত নিয়ে যায় তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্যমতে, আজ ভোর চারটার দিকে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে চারজন নারী ও দুজন পুরুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির টহল দল দ্রুতই বিষয়টি টের পায়। এরপর বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় বিএসএফের এই প্রচেষ্টায় বাধা প্রদান করেন। সকাল ১০টার দিকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেয়।

রংমহল গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়া জানান, ওই ছয়জনকে প্রতিহত করতে বিজিবি ও গ্রামবাসী সেখানে জড়ো হন। কুয়াশার মধ্যে বিএসএফ তাঁদের ঠেলে পাঠিয়েছিল।

রংমহল বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার বেলাল হোসেন এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ভোর চারটার দিকে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে একদল মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি তা প্রতিরোধ করে। সকাল ১০টার দিকে ওই ছয়জনকে সীমান্তের ওপারে ফেরত নেন বিএসএফের সদস্যরা।” তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে দুজন পুরুষ ও দুজন নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। আজ সকাল পৌনে আটটার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীন ঠোটারপাড়া সীমান্তচৌকি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বেলা পৌনে ১১টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি এই তথ্য জানিয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির টহল দল ১৫৩/৯-এস নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভারতের ভেতরে বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের উদয় কিষান ক্যাম্পের সদস্যদের সন্দেহজনক তৎপরতা দেখতে পায়। বিএসএফ সদস্যরা ওই চারজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। বিজিবির সদস্যরা তাৎক্ষণিক সতর্ক অবস্থান নেন। বিজিবির এই কঠোর অবস্থানের মুখে সকাল আটটার দিকে বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই চারজন ভারতের ভেতরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা ঠেকাতে বিজিবি সব সময় সতর্ক ও প্রস্তুত আছে।”