কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের ৪৫ হাজার টাকার দাবিতে নাসরিন জাহান নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তির নাম মো. দুলাল (৩৫)।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে এসআরবি-১৩-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার কেরানীপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুলাল উলিপুর উপজেলার কবির মাহমুদ গ্রামের মৃত পাগলার ছেলে এবং এই হত্যা মামলার তিন নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে নাসরিন জাহানের বিয়ে হয়েছিল মামলার প্রধান অভিযুক্ত আলমগীরের সঙ্গে। তবে বিয়ের পর থেকেই আলমগীরের পরিবার যৌতুক হিসেবে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে আসছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নাসরিনের পরিবার ইতিমধ্যে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৪৫ হাজার টাকার জন্য তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৮ অক্টোবর যৌতুকের বাকি টাকা কবে দেওয়া হবে, তা জানতে নাসরিন তার বাবাকে ফোন করেন। সেই সময় তার বাবা নুর ইসলাম ধান কেটে টাকা দেওয়ার কথা জানান। কিন্তু তার পরদিন ২৯ অক্টোবর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি মেয়ের মৃত্যুর খবর পান।

মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ নামার চর এলাকায় অবস্থিত আলমগীরের বাড়িতে যান। সেখানে তারা নাসরিনের শরীর, পিঠ, গলা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর নাসরিনের বাবা নুর ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ অক্টোবর উলিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি-১৩। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”