ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি ফলের বাগানের তিন শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার প্রমাণ হিসেবে দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

বাগানের মালিক মো. মাজেদুল হাসান এই ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ কাঠালিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল মুন্সি, তাঁর বড় ভাই উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী জাকির হোসেন মুন্সি এবং ছোট ভাই জসিম মুন্সিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। মাজেদুল হাসান উপজেলার পশ্চিম আউরা গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দুটিতে দেখা যায়, জামাল মুন্সি হাতে দা নিয়ে বাগানের বেড়া কাটছেন এবং তাঁর পেছনে বড় ভাই জাকির মুন্সিকেও অবস্থান করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে সড়কের পাশে ১১ কাঠা জমিতে মাজেদুল হাসান একটি বাগান গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে আম, সুপারি, কাঁঠাল, লেবু ও নারকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল। এছাড়া বাগানে দেড় শতাধিক রেইনট্রি গাছ ছিল। মাজেদুল হাসানের দাবি, এই গাছ কাটার ফলে তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বাগানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ওবায়দুল মুন্সি মুক্তকণ্ঠকে জানান, “মালিক ঢাকায় থাকায় আমি জমি ও বাগান দেখাশোনা করি। শনিবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন বাগানের গাছ কেটে ফেলেন। আমি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁরা আমাকে খুন-জখমের হুমকি দেন। পরে ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কাঠালিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মাজেদুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আমার অনুপস্থিতিতে তাঁরা পূর্বশত্রুতার জেরে আমার বাগানের তিন শতাধিক গাছ কেটে ধ্বংস করেছেন। আমি এলাকায় ফিরে আইনি ব্যবস্থা নেব।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল মুন্সি। তিনি দাবি করেন, “যে জমিতে ফলের বাগান করা হয়েছে, সেখানে আমাদের ওয়ারিশদের সম্পত্তি রয়েছে। ফলের গাছ কাটার অভিযোগ সঠিক নয়।”

কাঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু নাছের রায়হান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।