বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দিশা (১৯) নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে জানান। তিনি বলেন, “তাকে আমরা গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।”
তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া দিশা তাহসিফের কথিত প্রেমিকা। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং তদন্তের স্বার্থে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ। এই কারণে আদালতে তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নৌ পুলিশের এসপি পুনরায় উল্লেখ করেন, দিশা নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্টে তাহসিফ, দীপ এবং দিশা নামের ওই তরুণীকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। ফুটেজ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ওই রেস্টুরেন্টে একটি মোটরসাইকেলে করে পৌঁছান তাহসিফ, দীপ ও ওই তরুণী। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায় ক্যামেরায়।
রেস্টুরেন্টের অন্য একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায় এবং এরপর তারা মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে তারা তিনজন কোথায় গিয়েছিলেন, সেই তথ্যের সন্ধানে এখন হন্যে হয়ে কাজ করছে তদন্তকারী দল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ও জুনিয়র বন্ধু দীপকে প্রথমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেই সময় তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন দীপ। তবে তদন্তকারী সূত্রের দাবি, দীপের বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছে পিবিআই।
নৌ পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, রিমান্ডে থাকা দীপের আগের বক্তব্য, পরিবারের করা মামলার অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তদন্তে প্রাপ্ত আলামত মিলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর ঠিক আগে কী ঘটেছিল এবং এই ঘটনায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।