রাজধানীর তুরাগ নদীর একটি ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (তাওসিফ সৌরি) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। উদ্ধার করা মরদেহে কোনো দৃশ্যমান বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে নৌ পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই এবং সিআইডির বিশেষ টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী সংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের অবস্থান এবং শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাগুলো সামনে রেখেই তদন্ত এগিয়ে চলছে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে পুলিশ এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এই বিমান কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় ঘুরতে যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট নৌকায় নদী পারাপারের জন্য ওই ঘাটটি ব্যবহার করে থাকেন। ঘটনার দিনও তিনি উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পৌঁছায় এবং ফরেনসিক ভ্যানের সহায়তায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। একই সাথে পিবিআই-ও এই তদন্তে যুক্ত হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান এবং সংগৃহীত আলামতগুলো বিশ্লেষণ করছে।

ঢাকা অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কিছু নেই, যেটি দেখে মৃত্যুর কারণ বলা যায়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।’

তিনি আরও জানান, নৌ পুলিশের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা নিজস্ব পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করছে। এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন ওই সাবেক কর্মকর্তা তার এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করার পর নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা তার সঙ্গে সর্বশেষ বাইরে বের হওয়া ব্যক্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ঘটনার দিন তারা কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এরপর ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সব তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র আরও জানিয়েছে, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে নানা দাবি ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত কর্মকর্তাকে নিয়ে পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই এখনো যাচাই করা হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো দাবি বা গুজবের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘নিহতের বাবা এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। তারা যদি হত্যার অভিযোগ না করেন, সে ক্ষেত্রে ইউডি মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়াও ঘটনা আপাতত নৌ পুলিশের তদন্তে রয়েছে। নৌ পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।’