রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট নয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও একমাত্র শিক্ষার্থীকে পাস করাতে না পারায় পাঠদানের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গত বছরও এই প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তিনিও অকৃতকার্য হয়েছিলেন।
১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখাটি এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখাটি এখনও সেই সুবিধা পায়নি। ২০১১ সালে এই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখা চালু করা হয়। বর্তমানে এখানে নয়জন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন।
কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী জানান, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কলেজ শাখাটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে কলেজে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, “নিজস্ব পাকা একাডেমি দেখানো হলেও বাস্তবে সেটি নেই। পুরোনো অবকাঠামো নিয়েই চলছে পাঠদান।”
অধ্যক্ষের দাবি, এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই কলেজে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।
এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ১১ হাজার ১৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৬ জন, যার ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এবার এই বোর্ডের অধীনে মোট ৬৬৮টি কলেজের মধ্যে ৪৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।