পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রিন্সের বাবা, মা এবং কিশোরী বোনও রয়েছেন।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বাকিদের তালিকায় রয়েছেন প্রিন্সের বন্ধু ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), দিরাই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১), ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি (১৯) এবং সিলেটের ভাদেরশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির (২০)। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রিন্সের মা শামী আক্তার পলি (৩৮), বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৫) এবং তার ছোট বোন, যে সপ্তম শ্রেণির একজন ছাত্রী।

শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এই আটজনকে আটক করা হয়। এরপর আজ রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছোট বোন স্কুলছাত্রী ছাড়া বাকি সবাইকে সুনামগঞ্জের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এবং আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর রাতে নাশকলার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে আটক করা হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর হাজতে থাকাকালীন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রিন্সকে আটক করার পর তার মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মব বা ভিড় তৈরি করে পুলিশের কাজে বাধা দেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের আঘাত করা এবং আসামি ছিনতাই করার চেষ্টার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই শনিবার মধ্যরাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং আজ সবাইকে আদালতের হাজির করা হয়।